Pages

Tuesday, 4 June 2013

বাঙালির দুর্গোৎসব ও দেবীতত্ত্ব

                                                                           -অপর্ণা সাহা


‘শঙ্খে শঙ্খে মঙ্গল গাও
জননী এসেছে দ্বারে’
প্রকৃতিতে শিউলি, পুকুরে পদ্ম ফুলের শোভা, নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, পাল তুলে দুলে চলা নৌকা আর কাশফুল দেখে মনে হতো এসেছে উৎসবের ঋতু শরৎকাল। যদিও বর্তমানে বদলে গেছে ঋতুর চরিত্র। সাজানো-গোছানো নেই আগের মত ষড়ঋতু। গ্রামবাংলা সংকুচিত করে বিস্তৃতি ঘটেছে নগরায়ন। ভূমিদস্যুদের অপদখলে বিলীন হয়ে গেছে খাল-বিল, ছোট নদী আর তাদের সাথে পথ চলা কাশবন। জলবায়ু পরিবর্তন, চিরচেনা ঋতু গুলিকে করেছে অচেনা। কিন্তু তাতে কি? নীল আকাশ তো রয়েছে। সেই নীলাম্বরী পরা নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলার সাথে তাল মিলিয়ে বাজবে ঢাকের বাজনা, ঢোলের ঝংকার, কাঁসর ঘন্টার সঙ্গীত। কেনান, বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উৎসব কেবল হিন্দু সম্প্রদায়ের নয়, এখন তা সার্বজনীন। শুধুমাত্র ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা হিন্দু সম্প্রদায়ের কিন্তু মূলবাণী সমগ্র মানবজাতির।  শিউলী সুগন্ধী মাখা শরৎকালে দেবী দুর্গার আবির্ভাব। বসন্তকালে দেবীদুর্গাকে বাসন্তী নামে অভিহিত করেও পূজা করা হয়। শ্রীশ্রীদুর্গা দেবী ভগবতী-সর্বশক্তি স্বরূপিনী। তিনি সর্বভূতে বিরাজিতা তিনি সকল শক্তির আঁধার। মাতৃশক্তি সকল শক্তির কেন্দ্রস্বরূপ। শক্তি না থাকলে জগতে ন্যায়, ধর্ম কিছুই রা করা যায় না। এমনকি সংসারের কথা ছেড়ে দিলেও, শক্তিহীনের দ্বারা আত্মজ্ঞান লাভ হয় না। এই শক্তি শুধু শরীরের নয়। মানসিক শক্তি, অর্থের শক্তি, বিদ্যার শক্তি, জনশক্তি-পৃথিবীর সর্ববস্তু, এমনকি জীবের অন্তরালে যে মহাশক্তি সুপ্ত হয়ে আছে, সেই আদিশক্তি, মূলশক্তি। মানুষের মনে যদি দুঃখীর দুঃখ দুর করার ইচ্ছা হয়, অর্থশক্তি না থাকলে তা কখনোই পারা যায় না। যদি প্রবলের অত্যাচার থেকে দুর্বলকে বাঁচাতে হয় তবে শারীরিক শক্তি না থাকলে তা সম্ভব হয় না। কাজেই জীবনকে সার্থক করে তুলতে হলে সর্বপ্রকার শক্তি অর্জন মানুষকে অবশ্যই করতে হয়। যিনি সকল শক্তির আধারভূতা, সেই মহাশক্তি স্বরূপিনী দেবী পূজার চালচিত্রটি ল্য করলে দেখা যায় যে, মানুষের কল্যাণের প্রয়োজনে যা দরকার তা সকলই আছে মায়ের চালচিত্রে। স্বয়ং মা আছেন দশদিক আলো করে-দশ প্রহরণ ধারণ করে। অর্থাৎ তিনি সর্বত্র বিরাজমান।

শারদীয় দুর্গাপূজা মূলত পুরাণ আশ্রিত। মহাশক্তি দূর্গা-চণ্ডী-কালী প্রভৃতির আবির্ভার যেমন ঋগে¦দের পরে বৈদিক যুগের শেষে, তেমনি মহাশক্তির বিচিত্র বিকাশ পূর্ণতা পেয়েছে তন্ত্রের মধ্যে। ঋগে¦দের অন্যতম দেবতা সরস্বতী দেবীদের মধ্যে অন্যতম। সরস্বতী ধনদাত্রী, শস্যদায়িনী, শক্রঘাতিনী। তিনিই পরে জ্ঞানের অধীশ্বরী বাºেবী। সরস্বতী যখন পূর্ণভাবে বিদ্যাধিষ্ঠাতৃত্বে সুপ্রতিষ্ঠিতা হলেন, তখন লক্ষ্মী পেলেন সৌভাগ্য সম্পদের মালিকানা, আর সরস্বতীর শক্রবিমর্দিনী শক্তি নিয়ে পৃথক শক্রঘাতিনী দানবদলনী দেবীর স্বরূপে হলেন দূর্গা মহিষাসুর মর্দিনী।


সরস্বতীর ত্রিবিধ রূপ বেদে পুরাণে সুস্পষ্ট, (১) জ্যোতিরূপ দিব্য সরস্বতী; (২) যজ্ঞাগ্নিরূপ সরস্বতী-ইলা ও ভারতীর সঙ্গে অভিন্না; (৩) নদীরূপা- স্বচ্ছতোয়া পবিত্র সলিলা মতে বিরাজমান। জ্যোতির্ময়ী সরস্বতী ও যজ্ঞাগ্নিরূপা সরস্বতী অভিন্না। ইনিই হলেন দেব তেজোনির্গতা জ্যোতির্ময়ী চণ্ডী। ‘পুরাণ বলেছেন, দেবীর সমস্ত রোমকূপে দিবাকর নিজরশ্মি প্রদান করেছিলেন। সুতরাং জ্যোতির্ময়ী সরস্বতী ও জ্যোতির্ময়ী চণ্ডী একই সত্তার নামান্তর।
মার্কণ্ডেয় পুরাণ, কালিকা পুরাণ, দেবীপুরাণ, মৎস্য পুরাণ ও বৃহন্নন্দিকেশর পুরাণে দুর্গা পূজার বিধি ও বি¯তৃত বিবরণ বর্ণিত আছে। উল্লিখিত পুরাণগুলি যদিও দু®প্রাপ্য। তবুও এই পুরাণানুসারে দুর্গাপূজা সর্বত্র প্রচলিত। এই উপমহাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় শরতের শুকা পঞ্চমী তিথিতে দেবী দুর্গাকে আমন্ত্রণ জানায়। বোধন ও অদিবাসের মধ্য দিয়ে পালন করে মহাষষ্ঠী। শ্রীশ্রী দুর্গাদেবীর নব পত্রিকা প্রবেশ। দুর্গা দেবী আসলে শস্যদেবী। নবপত্রিকা পূজাই তার প্রমান। নবপত্রিকা অর্থে বোঝায় নয়টি গাছের পাতা। কিন্তু নবপত্রিকা নয়টি গাছের পাতা নয়, নয়টি উদ্ভিদ। এই নয়টি উদ্ভিদ হচ্ছে কলাগাছ , কালো কচুগাছ , হলুদ গাছ , জয়ন্তীর শাখা , বিল্ব শাখা , দাড়িম্বশাখা , অশ্বত্থ শাখা , মানকচু, ধান গাছ। এই নয়টি বৃ সংযোজিত থাকে বলে এর নাম নবপত্রিকা। এগুলিকে অপরাজিতা লতা দিয়ে বেঁধে বধু সাজে সজ্জিত করে নাম দেয়া হয়েছে কলা বউ। কিন্তু নবপত্রিকা নবদুর্গা নামে পুজিতা হন। উদ্ভিদগুলি দেবীর প্রতিরূপ হিসাবে গণ্য হয়। এরপর মহাসপ্তমী কল্পারম্ভ, মহাষ্টমী কল্পারম্ভ, মহানবমী কল্পারম্ভ এবং দশমী বিহিত পূজা সমাপনান্তে বিসর্জন। বিসর্জনান্তে অপরাজিতা পূজা।

দেবী দুর্গার সাথে সন্তানরূপে তাঁর সাথে পৃথিবীতে আসেন-(১) শ্রীশ্রীগণেশ : গণশক্তির প্রতীক। তাই তাকে বলা হয় সিদ্ধিদাতা গণেশ। (২) শ্রীশ্রীকার্ত্তিক : াত্র শক্তির প্রতীক। শৌর্য বীর্য দেশপ্রেম না থাকলে দেশ রা করা সম্ভব হয় না। দেশমাতৃকার চরণে আত্মবলিদানই াত্রশক্তির কর্তব্য। (৩) শ্রীশ্রীলক্ষ্মী : ঐশ্বর্য্যরে প্রতীক। “শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা”Ñশ্রীলক্ষ্মীর দান। (৪) শ্রীশ্রীসরস্বতী : জ্ঞানের প্রতীক। শিার আলো সভ্য সমাজের উন্নতির একমাত্র হাতিয়ার। (৫) সিংহ : দেবীর বাহন। হিংসাশূন্য বলবান। প্রয়োজনাতিরিক্ত ব্যবহার নাই। সংযত জিতেন্দ্রিয়। তাই পশুরাজ। (৬) অসুর : অশুভ শক্তির প্রতীক। তাই পদতলে। অশুভ শক্তি রাষ্ট্র, সমাজ, সংসার প্রভৃতি নষ্ট করে। তাকে দমন করা অবশ্য কর্তব্য। মহিষাসুর কোন শরীরি জীব নয়। বৈদিক বৃত্তের মতই কোন নৈসর্গিক আলোক আবরণকারী অশুভশক্তি মহিষাসুর বা দুর্গামাসুর। দেবীভাগবত ও বামুনপুরাণ অনুসারে মহিষাসুর রম্ভাসুরের পুত্র। অগ্নি-উপাসক ও অগ্নির বরে বলদৃপ্ত। বামুনপুরাণ বলেন যে, এক মহিষী ও রম্ভাসুরের মিলনে মহিষাকৃতি মহিষাসুরের জন্ম হয়েছিল। ঋগে¦দে মহিষ শব্দের অর্থ বিরাট-প্রভূত বলশালী। অতএব মহিষাসুর বৃত্রের মতই সূর্যাগ্নির জ্যোতি আবরক কোন শক্তি। দুর্গা পূজার মূল উদ্দেশ্য আসুরিক শক্তিসমূহের বিনাশ সাধন। সত্য ও ন্যায়ের পথে দুর্গারূপী শুভ শক্তিকে অন্তরের মনি কোঠায় জাগ্রত করে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে অপশক্তিকে নির্মূল করা। যদিও দুর্গা পূজার উদ্যেশ্যকে বাস্তব প্রোপটে রূপায়িত সহজসাধ্য নয়। একমাত্র গণশক্তির জাগরণেই এটা সম্ভব।

দেবীর আবির্ভাব : মার্কেণ্ডেয় পুরাণের ২৮তম অধ্যায় অনুযায়ী প্রায় একশো বছরের ভীষণ যুদ্ধে অসুরকুলের কাছে পরাজিত হওয়ার পর ব্রহ্মাকে সামনে রেখে হতোদ্যম দেবতারা গেলেন বিষ্ণু এবং শিবের কাছে। দেবতা হয়ে অসুরদের কাছে পরাজিত। তার উপর সেখানে একচ্ছত্র অধিপতি হয়ে বসেছেন মহিষাসুর। মহিষাসুর একাই সুর্য, দেবরাজ ইন্দ্র, অগ্নিসহ অন্যান্য সমস্ত দেবতার অধিকার হরণ করে, সকলকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এই পরাভব কাহিনী শুনে ব্রহ্মা, বিষ্ণু এবং মহেশ্বর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হলেন এবং তাঁদের তিনজনের মুখ থেকেই মহাতেজ বেরতে শুরু করল। দেবরাজ ইন্দ্রসহ বাকি দেবতাদের শরীর থেকেও  বেরল তেজ। সেই সমস্ত তেজ একত্রিত হয়ে ‘একস্থং তদভুন্নারী’-অর্থাৎ একটি নারীমূর্তির সৃষ্টি হল। তিনিই হলেন দুর্গা।

এক এক দেবতার তেজে দেবী দূর্গার এক একটি অঙ্গ গঠিত হয়েছিল। শিবের তেজে দেবীর মুখ, যমের তেজে কেশ, বিষ্ণুর তেজে বাহু সমূহ, চন্দ্রের তেজে স্তনদ্বয়, ইন্দ্রের তেজে মধ্যভাগ, বরুণের তেজে জঙ্খা ও ঊরু, পৃথিবীর তেজে নিতম্ব, ব্রহ্মার তেজে পদযুগল। বসুগণের তেজে করাঙ্গুলি, কুবের তেজে নাসিকা, প্রজাপতির তেজে দন্ত, সন্ধ্যার তেজে ভ্রƒাদ্বয় এবং পবণের তেজে কর্ণদ্বয় গঠিত হয়েছিল। অন্যান্য দেবতাদের তেজে দেবীর অবয়ব গঠনে সাহায়ক হয়েছিল। দেবগণ সকলেই তাদের নিজ নিজ অস্ত্র, ভুষণ ও বাহনের দ্বারা দেবীর আবির্ভাবে সহয়তা করেছিলেন। মহাশক্তির আবির্ভাব সকল দেবতার শক্তি বা তেজের সমবায়ে। এখানে মনে হতে পারে যে, নারীমুর্তি কেন? কারণ মহিষাসুরের ধ্যানে তুষ্ট হয়ে ব্রহ্মাই তাঁকে বর দিয়েছিলেন, কোন পুরুষ (তা সে মানুষই হোক বা দেবতা) তাঁকে বধ করতে পারবে না। সেই বর পেয়ে নিজেকে অপরাজেয় ভাবতে শুরু করেন মহিষাসুর এবং দেবতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করেন। তিনি বুঝতে পারেননি, বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে নারীদেরও অস্তিত্ব আছে আর তাঁরাও অসুর বধ করতে পারেন।

দেবীর এক-একরকম যানবাহনে আসা-যাওয়ার তাৎপর্য :
নৌকা : নৌকায় গমনাগমন বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘শস্যবৃদ্ধিস্তথাজলম্। কল্পনা করা হয়েছে যে, দৈবীশক্তির জলপথে পরিভ্রমণের সময়ে জলে প্রবল আলোড়ন হয়, যার ফলাফল  জলোচ্ছ্বাস বা প্লাবন। আবার জলই তো মানুষের জীবন, মানুষের সভ্যতাও নদীমাতৃক। তাই এর শুভ দিকটি হল জলপ্লাবনে নদীর দুকূল ছাপিয়ে ওঠে এবং দুপাশের শস্যভূমি আর্দ্র, উর্বর, সরস এবং আরও সবুজ হয়ে ওঠে। অর্থাৎ মায়ের নৌকোবিহারে শস্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা সুপ্ত রয়েছে।
ঘোটক: অস্থিরতা এবং নিরাপত্তাহীনতার প্রতীক। শাস্ত্রে বলা হয়েছে, ‘ছত্রভঙ্গস্তুরঙ্গমে’, অর্থাৎ মায়ের ঘোটকে যাতায়াতকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংসারিক েেত্র অস্থিরতা তৈরি হয়। এর ফলে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্থান-পতন, দুর্ঘটনা, অপমৃত্যু, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতার প্রভাব বেড়ে ওঠে।
গজ: ‘গজে চ জলদা দেবী শস্যপূর্ণা বসুন্ধরা’, অর্থাৎ গজপৃষ্ঠে গমনাগমনে ধরিত্রী শস্য বৃদ্ধি ও জীব-বৈচিত্র সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ভরিয়ে তুলবে। গজকে  শুভযাত্রার প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঐতিহাসিক কাল থেকেই গজ রাজকীয় মর্যাদার অধিকারী। হাতির পিঠে যাতায়াত এবং হাতিকে প্রতিপালন করা অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত এবং রাজকীয় মর্যাদার পরিচায়ক। তাই গজে আগমন বা গমন মানবসভ্যতা ও রাষ্টের জন্য অতীব মঙ্গলজনক বলে মানা হয়।
দোলা : অশুভ প্রতীক হিসেবে কল্পনা করা হয়েছে দোলাকে। মনে করা হয়, মায়ের পালকিবাহকদের পায়ের ছাপে পৃথিবী কেঁপে ওঠে, প্রকৃতি ও মানুষের সুখ-আনন্দ-সন্তোষের শুভ সম্ভাবনাগুলো হয় পদপিষ্ট। তার উপর, দোলার আচ্ছাদনের মধ্যে অন্তরালে থাকার জন্য দেবীর কৃপাদৃষ্টি থেকে বঞ্চিত হয় মানবসভ্যতা।

মায়ের বিসর্জন :

নবমীর রাত পোহালেই ঢাকে বেজে উঠে বিজয়ার সুর। আকাশে বাতাশে বিষাদের সুর ছড়িয়ে দেয় সানাই। তীরকাঠির সুতো ছিঁড়ে ঘট নাড়িয়ে ছিন্ন করা হয় ভক্তের সঙ্গে দেবীর বন্ধন। দর্পণে মায়ের মুখ দেখার মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বিজয়া দশমী। পূজা অন্তে ঘট বিসর্জনের পর ঈশান কোনে অষ্টদল  পদ্ম এঁকে তার উপর অপরাজিতা লতা রেখে শুরু হয় অপরাজিতা পূজা। সবশেষে মাকে মিনতি করে বলা হয়, ‘সংবৎসরব্যতীতে তু পুনরাগমনায় চ’, তাঁকে মনে করিয়ে দেওয়া হয় আবার আসার কথা, তাই মায়ের যাওয়া সর্বদা পুনরাগমনের প্রতিশ্র“তিতে পুর্ণ। মা তাঁর সঙ্গীদের নিয়ে যথাসময়ে রওনা হয়ে যান কৈলাসের পথে। মর্ত্যে তখন বিষাদের ছায়া। নদীর তীরে সারি সারি প্রতিমা, মায়ের মুখে লেগে থাকা নারিকেলের সন্দেশ, মাথায়-কপালে লেপে থাকা সিঁদুর, মলিন বদনে মা যেন দাঁড়িয়ে। বিষাদ লুকিয়ে থাকা ভক্তদের প্রার্থণা “আবার এসো, মা। মর্কটবৈরাগ্য ছেড়ে সত্যিকারের শক্তিমন্ত্রে দীতি হোক জীবকূল; জগৎজননী মা দুর্গার জয়গানের সঙ্গে জননী জন্মভূমির জয়গান মিলে বাংলার আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠুক; বাঙালী ভুলে যাক এ-মা আর সে-মায়ের ভেদ; প্রত্য করুক সকল নারীমূত্তিতে জগন্মাতার স্বরূপ।”
লেখক ঃ  সাংস্কৃতিককর্মী।

2 comments: