হারিয়ে যাচ্ছে নৌকা
-অপর্ণা সাহা
দেশের বিভিন্ন জেলার হাওর-বাঁওর নদ-নদী,খাল বিল, গুলোর পারাপার বা যাতায়াতের এক মাএ বাহন ছিলো নৌকা । বহমান নদী গুলোর নানা বর্ণের নানান ধরনেন ছোট বড় নৌকা আজ হাড়িয়ে যাচ্ছে যান্ত্রিক সভ্যতার যুগে। আজকাল আর তেমন একটা চোখে পরে না এই জলবাহন । সহজলভ্যের পাশাপাশি যান্ত্রিক যুগে পানিতেও লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। পানিতে চলমান নৌকার শতকরা পঁচানব্বই ভাগই হচ্ছে এখন ইঞ্জিনচালিত লঞ্চ বা ষ্টিমার । যাত্রী কিংবা মালামাল পরিবহ সহ মাছ ধরার ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা আজ পাল তোলা বা বৈঠার পরিবর্তে লেগেছে যান্ত্রিকতার ছোয়া । সুনশান নদীতে বিকট আওয়াজ করে প্রচন্ড ও ঢেউ তুলে চলাচল করে এসব নৌকা। ইঞ্জিনচালিত নৌকার বিকট আওয়াজে নদী কিংবা হাওরের দুই পাড়ের গ্রামবাসীদের কান ঝালাপালা হলেও বলার বা প্রতিবাদ করার কিছু নেই চলতে তো হবে। অনেকাংশে নৌকা চলাচলের ফলে সৃষ্ট ঢেউয়ের আঘাতে দু’পারের গ্রামগুলো ভয়াবহ ভাঙনের হুমকির সন্মুখীন।অথচ মাত্র দু’তিন দশক আগেকার কথা।শরৎ কিংবা বর্ষা হেমন্ত কিংবা বসন্ত সব ঋতুতেই জেলা হাওর বাঁওর নদীতে দেখা যেত রঙ বেরং এর পাল তোলা ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা ।বাতাসের সাহায্যে নৌকার গতিকে বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হতো ছোট বড় নানা আকৃতির নানা বর্ণের পাল।নদীতে কিংবা বর্ষায় হাওরের পানিতে ভাসত শত শত ডিঙ্গি আর পাল তোলা নৌকা।মনের আনন্দে মাঝি মাল্লারা পাল তুলে দিয়ে নৌকার হাল ধরে গেয়ে যেত জারি সাড়ি বা ভাটিয়ারী গান আজ আর তা নেই আছে শুধু বিশা বিশা ডেউ ঠেলে দ্রোত ছোটে চলা ইঞ্জিনচালিত লঞ্জ ষ্টিমার । এক সময় এক ঘাট থেকে অন্য ঘাটে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে কিংবা এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে পৌঁছার প্রধান অবলম্বন ছিল নৌকা। শত শত মাঝি তখন এই পেশার উপর নির্ভর করেই তাদের জীবিকা অর্জন করত। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে নৌকার প্রচলন প্রায় উঠে গেছে বললেই চলে।নদিতে কদাচিৎ পাল বা মাছ ধরার ছোট ডিঙ্গি নৌকার দেখা মেলে,হাওর ও নদীতে পাল তুলে নৌকা চলাচলের দৃশ্য এখন বিরল। পাল তোলা আর ছোট ছোট ডিঙ্গি নৌকা এখন কেবলই স্মৃতি।

No comments:
Post a Comment